ভারতে স্বর্ণ বেচাকেনায় সংযোজিত মূল্য (প্রিমিয়াম) গত সপ্তাহে এক দশকের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। আগাম বাজেট পরিকল্পনায় আমদানি শুল্ক বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা দ্রুত মূল্যবান ধাতুটি কিনতে শুরু করেছেন। খবর রয়টার্স।
ভারতের ব্যবসায়ীরা গত সপ্তাহে সরকার নির্ধারিত মূল্যের ওপর আউন্সপ্রতি সর্বোচ্চ ১১২ ডলার পর্যন্ত মূল্য সংযোজন করেছেন, যা ২০১৪ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ। প্রিমিয়ামে ৬ শতাংশ আমদানি শুল্ক এবং ৩ শতাংশ বিক্রয় কর অন্তর্ভুক্ত আছে।
হায়দরাবাদের ক্যাপসগোল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চন্দা ভেঙ্কটেশ বলেন, ‘গত সপ্তাহে স্বর্ণের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী ছিল। সরবরাহের আগেই ব্যবসায়ীরা কেনাকাটা শুরু করেছেন। ভারতের বাজেটে শুল্ক বৃদ্ধির প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হয়ে দ্রুত ক্রয় করছেন।’
ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য কেন্দ্রীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন। এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তিনি স্বর্ণ ও রুপার আমদানি শুল্ক ১৫ থেকে কমিয়ে ৬ শতাংশ করেছিলেন।
মুম্বাইয়ের এক বেসরকারি ব্যাংকের বুলিয়ন ব্যবসায়ী বলেন, ‘গহনার চাহিদা খুবই কম। স্বর্ণের দাম রেকর্ড সর্বোচ্চে থাকায় বিনিয়োগ চাহিদা কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু শুল্ক বৃদ্ধির প্রত্যাশার কারণে বিনিয়োগ খাত হিসেবে এটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।’
ভারতে গত শুক্রবার প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম রেকর্ড ১ লাখ ৫৯ হাজার ২২৬ রুপিতে পৌঁছেছে।
বিশ্বের শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশ চীন আন্তর্জাতিক স্পট মূল্যের তুলনায় গত সপ্তাহে আউন্সপ্রতি সর্বোচ্চ ৮ ডলার প্রিমিয়ামে স্বর্ণ বেচাকেনা করেছে। গত সপ্তাহে আউন্সপ্রতি ১২ ডলার ছাড় থেকে ৩ ডলার প্রিমিয়ামে মূল্যবান ধাতুটি বেচাকেনা করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। উইং ফং প্রিসিয়াস মেটালসের হেড অব ডিলিং পিটার ফং বলেন, ‘চীনে চাহিদা কিছুটা সীমিত হলেও রেকর্ড মূল্যের পরও অনেক রিটেইলারসহ অন্য বিনিয়োগকারীরা ১০০-৫০০ গ্রাম পর্যন্ত স্বর্ণের বার কিনছে। এটি ফিজিক্যাল গোল্ডের বাজারের জন্য ভালো সংকেত।’
সিঙ্গাপুরে গত সপ্তাহে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ৫০ সেন্ট ডিসকাউন্ট থেকে সর্বোচ্চ ২ ডলার প্রিমিয়ামে বিক্রি হয়েছে। হংকংয়ে এ সময় প্রিমিয়াম ছিল ১ ডলার ৭০ সেন্ট। এ সময় জাপান ৬ ডলার ছাড় থেকে ১ ডলার প্রিমিয়ামে স্বর্ণ বিক্রি করেছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় স্থিতিশীল।